সবার জন্য ফরজ ইলম

রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইলমে (দ্বীন) শিক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ।
উলামায়ে কেরাম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন যে, ইলমে দ্বীনের সমস্ত অংশ শিক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ নয়। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা সবার জন্য ফরজ।
কতটুকু ইলম অর্জন করা ফরজ?
এক কথায় বলা যায়, যতটুকু না জানলে মুসলমান হওয়া যায় না বা কোন মুসলমানর উপর আবশ্যকীয় যে কাজ সেই কাজগুলো করা যায় না সেই পরিমাণ ইলম শিক্ষা করাই হচ্ছে ফরজ।
যেমন, একজন মুসলমানের উপর আবশ্যক হল ঈমানের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা। ঈমান আনার পর প্রতিটি মুসলমানের আবশ্যকীয় কর্তব্য হল নামায। আর নামায পড়তে হলে জানতে হবে নামাযের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো। কোরআন শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা, পানি এবং পবিত্রতার মাসাআলা হচ্ছে এমন বিষয় যেগুলো নামাযের মাসাআলার পাশাপাশি নামায শেখার জন্য প্রয়োজন। এমনিভাবে রোযাও যেহেতু প্রতিটি সাবালক মুসলমানের উপর ফরজ, তাই তাদের জানতে হবে রোযার মাসাআলাও।
এর বাহিরেও ইলমে দ্বিনের অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো জানা ফরজ। কিন্তু সেগুলো নামায, রোযার মত সকলের উপর শেখা ফরজ নয়।যেমন, যাদের উপর যাকাত বা হজ্ব ফরজ তাদের জন্য যাকাত এবং হজ্ব সম্পর্কিত সম্পর্কিত সকল মাসাআলা জানা আবশ্যক। তারপর, যে ব্যবসা করবে তার জন্য ব্যবসার মাসাআলা, যে কৃষিকাজ করবে তার জন্য কৃষিকাজ সম্পর্কিত মাসাআলা, যে শিক্ষকতা করবে তার জন্য শিক্ষকতার সাথে সম্পর্কিত মাসাআলা জানা আবশ্যক। অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি যেই কাজটি করবে তাকে সেই কাজের সাথে জড়িত ইসলামী হুকুম সম্পর্কে জানতে হবে।
আমার প্রথম যে স্বপ্ন বা উদ্দেশ্য, তা হল সবার জন্য যে পরিমাণ ইলম অর্জন করা ফরজ সেই ফরজ ইলম অর্থাৎ, আক্বিদা, নামায, রোযার সাথে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় ইলম অর্জনে সাহায্য করা।
আল্লাহ্‌ তায়ালা চাইলে আমি এই বিষয়ে কিভাবে কাজ কর‍তে চাই তার বিস্তারিত আমি পরবর্তীতে তুলে ধরবে ইনশাআল্লাহ্‌।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *